অলস, কাজকর্মে অনীহা পিতার সঙ্গে, উচ্চস্বরে বকাঝকা আর অগোছালো মায়ের সংসার, যাহাই বিক্রি করুক না কেন, লোভে পড়ে বড়লোক হবার স্বপ্ন দেখা ভাইয়ের প্রতিনিয়ত ক্ষতির পর ক্ষতি, তার উপরে দুষ্টু ভাইপো, এবং সর্বোপরি অতীতে ফিরে গিয়ে প্রতিদিন অপচয়ে মত্ত অপদার্থ কন্যা সুফানবাও—এ যেন সত্যিই এক অনন্য পরিবারের গল্প। সুফানবাও বাধ্য হয়ে অপচয়ের এক বিশেষ ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হয়েছে—যদি অপচয় না করে, তবে তার মৃত্যুই অনিবার্য। অথচ দুর্ভাগ্যক্রমে তার ভাগ্য চিরকালই আশীর্বাদপুষ্ট। সুফানবাও বলল, ‘‘আমি তো শুধু অপচয় করতে চেয়েছিলাম! কারোই নজর না পড়া পাথর কিনে আনলাম, কে জানতো তার ভিতরে জেড বের হবে!’’ সুফানবাও বলল, ‘‘আমি তো শুধু অপচয় করতে চেয়েছিলাম! ভাঙাচোরা এক বাড়ি কিনলাম, কে জানতো মাটির নিচে সোনা পোঁতা!’’ সুফানবাও বলল, ‘‘আমি তো শুধু অপচয় করতে চেয়েছিলাম! বেশি টাকায় একজন নির্বোধ কিনে আনলাম, কে জানতো সেই নির্বোধই এক মহাপুরুষ!’’ সুফানবাও অসহায়ভাবে জানিয়ে দিল, সে সত্যিই কেবল টিকে থাকার জন্য অপচয় করতে চেয়েছিল। জমিদার হওয়া, ব্যবসায়ী হওয়া, ধনকুবের হওয়া, এমনকি রানি হওয়া—এসব কিছু তার ইচ্ছার বাইরে ছিল!