সমাপ্তি-বাণী
যদিও আমি একটি খসড়া পরিকল্পনা করেছিলাম, সেই পরিকল্পনা কতবার যে বদলেছি, তার কোনো হিসাব নেই। লিখতে লিখতে হঠাৎ নতুন এক ভাবনা এসে পড়ে, আবার লিখতে লিখতে আরেকটি নতুন ভাবনা এসে পড়ে; কিছু ভাবনা আমি বাতিল করেছি, কিছু রেখে দিয়েছি। ফলে পুরো পরিকল্পনাটাকেই ওই নতুন ভাবনার সঙ্গে মিলিয়ে আবার সাজাতে হয়েছে।
এর মধ্যে অনেকের চোখে “বিষয়গত সমস্যা” বলে ধরা পড়বে এমন একাধিক শর্তকে আমি হালকা হাতে এড়িয়ে গেছি—যারা সেসবকে সমস্যা মনে করেন, তারা বোধ হয় এই পর্যন্ত পড়ার কথাই নয়। আমার শুরুতে ভেবে রাখা রূপরেখা ছিল একটানা আঘাত করে যাওয়া, শেষে সরকার যখন বন্দি ম্যাগনেটিক মানুষ আর অধ্যাপককে ছেড়ে দেবে, তখন তারা একসঙ্গে এসে সমঝোতার কথা বলবেন, আর তখনই হাত গুটিয়ে ক্ষতিপূরণ নিয়েই থামবে।
ওই পর্বটা লিখতে লিখতেই হঠাৎ বছরের শুরুতে শেয়ারবাজার ধসে পড়ার সময় এসে গেল। ছুটির পর প্রথম দিন আর দ্বিতীয় দিন—দুটো দিনেই আমি সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছিলাম। লাভে সামান্য ক্ষতি হলেও অন্তত বেশির ভাগটা বাঁচাতে পেরেছিলাম।
তখনই আমার মনে হল, আমি পর্যন্ত জানি সময়মতো ক্ষতি মেনে বেরিয়ে আসতে হয়, অথচ ঊর্ধ্বতন মহলের এইসব বুদ্ধিমান লোকেরা সেটা বুঝল না কেন? শেষমেশ পেট ভরিয়ে মার না খেয়ে, নাকানি-চুবানি খেয়ে তবেই শান্তির জন্য হাত বাড়াবে—এটা কি খুব বেশি বোকামি হয়ে যাচ্ছে না?
কিন্তু দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনলাইন উপন্যাসের পাঠক হিসেবে আমিও জানি, মারামারি চললে পড়তে খুব মজা লাগে বটে, কিন্তু নিজের ভেতরের সেই জায়গাটা আমি পেরোতে পারছিলাম না। তাই শেষ পর্যন্ত পয়সা ছুড়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
লু সুন বলেছিলেন, মুদ্রাটি শূন্যে ছোড়ার সেই মুহূর্তেই আসলে তোমার হৃদয় তুমি জেনে যাও।
বই পড়া যেন সাক্ষাৎকার; যার সঙ্গে মনের মিল হয়, পড়া চালিয়ে যাও, না হলে সেখানেই শেষ। এই ভাবনা নিয়েই আমি নিজের হৃদয়ের পথ ধরেছিলাম।
সোজা কথা বলতে গেলে, শুরুতে গতি নিয়ে কিছুটা সমস্যা ছিলই। প্রথমবার বই লিখছি—অনুগ্রহ করে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
প্রথম খণ্ডে আমার ইচ্ছা ছিল পুরো শহর নির্মাণ শেষ হয়ে সরকারটির সঙ্গে সম্পর্ক তেতো হয়ে যাবে, এমনকি এক দফা সংঘর্ষও হবে; তারপর সেটাই মিউট্যান্টদের উত্থানের চিহ্ন হবে। কিন্তু আজ যখন আমি লিখতে লিখতে টনি স্টার্কের সমবায়ী সত্তা-সংস্করণের প্রহরী যন্ত্র বানানোর ইচ্ছার কথায় পৌঁছলাম, তখন হঠাৎই বুঝতে পারলাম—লৌহমানব পর্যন্ত যদি মিউট্যান্টের ক্ষমতা চাইতে শুরু করে, তার চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী হতে পারে যে মিউট্যান্টরা ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে?
তাই প্রথম খণ্ড এখানেই শেষ। দ্বিতীয় খণ্ডে আরও অনেক পরিচিত চরিত্র আলাদা আলাদা ভাবে মঞ্চে এসে নিজেদের গল্প শোনাবে।
আর আমি? আমাকে আবার পরিকল্পনা পাল্টাতে যেতে হবে—দরিদ্র পরিকল্পনা-বন্ধুর কী দুর্দশা!
《মার্ভেলে দেবতায় পরিণত হওয়া》 খণ্ডসমাপ্তির কথা
এখনও হাতে লেখা চলছে, অনুগ্রহ করে একটু অপেক্ষা করুন।
বিষয়বস্তু আপডেট হলে, অনুগ্রহ করে পৃষ্ঠা রিফ্রেশ করুন, তাহলেই সর্বশেষ আপডেট পেয়ে যাবেন!